Description
নন্দার জ্বর গুরুতরভাবে বাড়তে শুরু করতেই ক্লান্ত স্টিফেন পত্নী সেবায় ব্যস্ত হয়ে উঠল ভীষণ। নন্দার শরীর মুছিয়ে দিলো, মাথায় দিয়ে দিলো জলপট্টি। সাহেবী ডাক্তার ডাকাল। মুহূর্তেই এলাহী কাণ্ড সব। নন্দা ঘোরগ্রস্ত অবস্থায় সবই দেখল। বুক ফেটে তার কেমন কান্না পেল কেবল। বাবা-মায়ের সংসারে তিন মেয়ের মাঝে একটি মেয়ে ছিল সে। বাবা-মায়ের ছেলে ছিল না বলে ছোটোবেলা থেকেই তারা অবজ্ঞার পাত্রী ছিল। জ্বর এলে যে আহ্লাদ করে কেউ তা তারা কখনো অনুভব করেনি। অথচ আজ! তার অপ্রিয় মানুষটা তাকে সুস্থ করার জন্য কেমন মরিয়া হয়ে উঠেছে!
স্টিফেন কেবল মরিয়া হয়ে পায়চারী করছে এবং থেমে থেমে বলছে, “তুমি চিন্তা করিও না, সানশাইন। তুমি দ্রুত সুস্থ হইয়া যাইবে। আমি আছি তো!” ‘আমি আছি তো’- বাক্যটার অভাবে নন্দা জীবনে কতকিছুই করতে পারেনি। অথচ আজ তার ভরসা হয়ে একজন মানুষ আছে। যাকে সে ভালোবাসতে পারছে না। এই ভালো না বাসতে পারার যন্ত্রণা তার ভেতরে ছেয়ে গেল। কেঁদে উঠল সে অস্ফুটস্বরে। স্টিফেন কান্নার শব্দে ছুটে এলো, ব্যস্ত কণ্ঠে বলল, “কী হইয়াছে, সানশাইন? কষ্ট হইতেছে? বলিবে তো আমায়।” নন্দা ঠোঁট উল্টে বলল, “আমি কেন আপনাকে ভালোবাসতে পারছি না?”
নন্দার এমন কথায় স্টিফেন মুচকি হাসে, “তোমার ভালোবাসিতে হইবে না, সানশাইন। আমাদের সম্পর্কের জন্য, আমার ভালোবাসাই বেশি হইবে। তোমার ভাগের ভালোবাসাও নাহয় আমি বাসিব। তুমি কেবল আমার হইয়া থাকিয়ো?”

Reviews
There are no reviews yet.