Description
তুমি যত জানো, সত্য তত দূরে সরে যায়।
তুমি যত ছাড়তে শেখো, সত্য তত কাছে আসে।
মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন কিছু বই আছে, যেগুলো কেবল পড়া হয় না, অনুভব করা হয়। তাও তে চিং সেই বিরল গ্রন্থগুলোর একটি। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে রহস্যময় দার্শনিক লাওৎসুর লেখা মাত্র ৮১টি সংক্ষিপ্ত অধ্যায়ে ধারণ করা হয়েছে অস্তিত্ব, প্রকৃতি, নেতৃত্ব, বিনয়, প্রক্তা, স্বাধীনতা এবং অন্তর্জাগরণের এমন এক দৃষ্টিভঙ্গি, যা যুগে যুগে কোটি মানুষের চিন্তাকে আলোড়িত করেছে।
এই বই কোনো ধর্মগ্রন্থ নয়, কোনো মতবাদও নয়। এটি এমন এক পথের ইঙ্গিত, যা ভাষার আগেও ছিল, শব্দের পরেও থাকবে। লাওৎসু সেই পথের নাম দিয়েছেন-‘তাও’। কিন্তু তাও এমন কিছু নয়, যাকে সম্পূর্ণভাবে ভাষায় ধরা যায়। যে তাওকে বলা যায়, সে চিরন্তন তাও নয়।
তাও তে চিং আমাদের শেখায়, জোর নয়, কোমলতাই শক্তিশালী। অধিকার নয়, ছেড়ে দেওয়াই মুক্তিঃ সংগ্রাম নয়, সামঞ্জস্যই প্রকৃত বিজয় এই বইয়ের প্রতিটি বাক্য যেন একটি আয়না, যেখানে পাঠক বাইরের পৃথিবীর চেয়ে নিজের ভেতরটাকেই বেশি দেখতে পান।
হাজার বছরের ব্যবধান সত্ত্বেও আজকের ব্যস্ত, উদ্বিগ্ন এবং বিভ্রান্ত পৃথিবীতে তাও তে চিং আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক। কারণ মানুষের প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্ব বদলায়নি।
এই বই কোনো উত্তর দেয় নাঃ বরং এমন প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়, যার গভীরে নেমে গেলে উত্তর নিজেই উন্মোচিত হতে শুরু করে।
যদি কখনো মনে হয়ে থাকে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্যগুলো শব্দের বাইরে কোথাও লুকিয়ে আছে, তবে এই বইটি আপনার জন্য।

Reviews
There are no reviews yet.